নারী জাতির ফেতনা

অধ্যায়ঃ ফেতনাহ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পর (আমার উম্মতের) পুরুষদের জন্য নারী জাতির ফেতনার চাইতে অধিক ক্ষতিকর কোনো কিছু রেখে যাইনি।” সহীহ বুখারীঃ ৫০৯৬, সহীহ মুসলিমঃ ২৭৪০।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “তোমরা দুনিয়ার ধোঁকা থেকে বেঁচে থাক, এবং নারী জাতির ফেতনাকে ভয় কর। কেননা, বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনা ছিল নারী জাতির ফিতনা।” সহীহ মুসলিম।

ইমাম ইবনে জাওজী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “নারী প্রেম ও নারী আসক্তির প্রায়শ্চিত্ত বিভিন্ন প্রকার। কখনো ভোগ করতে হয় সঙ্গে সঙ্গে কখনো দেরিতে, কখনো প্রকাশ পায় কখনো তা প্রকাশ পায় না। আবার এর কিছু শাস্তি রয়েছে যা আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারে না। তবে সবচাইতে বড় শাস্তি হচ্ছেঃ

> আল্লাহকে ভুলে যাওয়া ও ঈমান বিলুপ্ত হওয়া।

> নারী আসক্তি ও গুনাহের কারণে অন্তর মরে যায়,

> যার ফলে সে আল্লাহর সঙ্গে মুনাজাতের স্বাদ আস্বাদন করতে সক্ষম হয় না।

> পবিত্র ক্বুরআন তার অন্তরে অবস্থান করে না।

> ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) সহ অন্যান্য ইবাদত তার কাছে অর্থহীন মনে হয়।

> আরো অনেক ধর্মীয় অবক্ষয় রয়েছে, যা তাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করে নেয়, যা সে নিজে অনুধাবনও করতে পারে না।

> তার অন্তরের দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত হয় গুনাহর অন্ধকার।

> নষ্ট হয়ে যায় তার অন্তর দৃষ্টি, যার প্রভাব পড়ে তার শরীরেও। যেমন, চোখের দৃষ্টি চলে যায়, স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে ইত্যাদি।

তাই অন্তরের মধ্যে গুনাহর আসক্তি উপলব্ধি করার সাথে সাথেই তওবা করা উচিৎ, হয়তোবা এর দ্বারা আসন্ন বিপদ দূরীভূত হয়ে যাবে।” জাম্মুল হাওয়াঃ ২১৭।

=> তাবেয়ী বিদ্বান সাইয়িদ ইবনে মুসাইয়িব রাহি’মাহিল্লাহ বলেছেন, “আমি আমার জীবনে ৮০ বছর বয়সের (বার্ধ্যক্যে) পৌঁছে গেছি, তবুও আমি আমার জন্য নারী জাতির (ফিতনার) চাইতে অন্য কোন কিছুকে এতো ভয় করিনা।” মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ৩৩৯১২।