দাজ্জালের ফেতনা

অধ্যায়ঃ ফেতনাহ

মানব জাতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, মানুষকে আল্লাহ সবচাইতে কঠিন যে পরীক্ষায় ফেলবেন, সেটা হচ্ছে কানা দাজ্জালের ফেতনা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আদমের সৃষ্টি থেকে শুরু করে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ে আল্লাহর নিকট দাজ্জালের চাইতে বড় ফেতনা দ্বিতীয়টি নেই।” মুসতাদরাক আল-হাকেমঃ খণ্ড ৪, ৫৭৩ পৃষ্ঠা।

অন্য হাদীসে আছে, “আদমের সৃষ্টি থেকে শুরু করে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সময়ে দাজ্জাল অপেক্ষা জঘন্যতম সৃষ্টি দ্বিতীয়টি আর নেই।” সহীহ মুসলিমঃ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৬৬।

এ কারণে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে সালাম ফেরানোর পূর্বে দুয়া মাসুরাতে কানা দাজ্জালের ফেতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন এবং আমাদেরকেও দাজ্জালের ফেতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদেশ করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করবে, তখন সে যেন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে। সে যেন এই বলে দুয়া করেঃ “হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন ও মৃত্যুর ফেতনা ও দাজ্জালের ফেতনা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” সহীহ মুসলিমঃ ১/৪১২।

দেখুন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল থেকে রক্ষা করার জন্য কত চিন্তা করতেন যে, আমাদেরকে সালাতের মধ্যে দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুয়া শিখিয়ে দিয়েছেন।

হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বর্ণনা করেন যে, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “দাজ্জাল যখন বের হবে, তখন তার সঙ্গে থাকবে পানি আর আগুন। কিন্তু মানুষ যাকে আগুন বলে দেখবে, সেটিই হবে শীতল পানি। আর যাকে পানি বলে দেখবে, সেটিই হবে শীতল পানি। আর কোন ব্যক্তি যদি দাজ্জালকে পায়, সে যেন সেই বস্তুটিকেই বেছে নেয়, যাকে সে আগুন বলে দেখবে। কেননা, সেটিই হল সুমিষ্ট ঠাণ্ডা পানি।” বুখারীঃ ৩/১২৭২।

দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য দুয়াঃ

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে হেফাজতে রাখা হবে।” সহীহ মুসলিম।