‘উলামায়ে সু’ বা পথভ্রষ্ট আলেমদের ফেতনা

অধ্যায়ঃ ফেতনাহ

একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি আমার উম্মতের জন্য একটি বিষয়কে দাজ্জালের চাইতেও বেশি ভয় করি।” (হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী বললেন), আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “হে আল্লাহর রাসুল! সেটি কি?” তিনি বললেন, “বিপথগামী এবং পথভ্রষ্ট আলেম।” মুসনাদে আহমাদঃ ২১৬২১, তাবরানীঃ ৭৬৫৩, হাদীসটি সহীহ লি গায়রিহ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “(ফিতনার যুগে) কিছু লোক এমন হবে, যারা জাহান্নামের দরজার দিকে মানুষকে দাওয়াত দিবে (অর্থাৎ তাদের দাওয়াত এমন ভ্রষ্টতাপূর্ণ হবে, যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে)। যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে, তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।” সহীহ বুখারীঃ ৩৩৩৬, ৬৬৭৯।

ইসলামী ইতিহাসে অবিস্বরণীয় আলেম, শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “দুনিয়াকে সবচাইতে বেশি ধ্বংস করেছে আধা-বক্তা, আধা-ফকীহ, আধা-ডাক্তার এবং আধা-ভাষাবিদ। এদের একজন (আধা-বক্তা) দ্বীনকে ধ্বংস করে, অপরজন (আধা-ফকীহ) দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করে। আধা-ডাক্তার মানুষের শরীরকে নিঃশেষ করে। আর আধা-ভাষাবিদ ভাষাকে নষ্ট করে।” মাজমাউল ফাতাওয়াঃ খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১১৮।

শায়খ সালিহ আল-ফাউজান হা’ফিজাহুল্লাহ বলেছেন, “বর্তমান যুগে অন্য অনেক ফেতনার সাথে এই উম্মত সবচাইতে বড় যে ফেতনার সম্মুখীন সেটা হচ্ছে, এমন অনেক দ্বাইয়ী রয়েছে যারা ই’লম ছাড়াই অজ্ঞতাবশত মানুষকে গোমরাহী ও বাতিলের দিকে দিকে দাওয়াত দিচ্ছে।”

বিগত শতাব্দীর ফকীহ ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উষায়মিন রহি’মাহুল্লাহর একটি কথা গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ করছি।

শায়খ মুহা’ম্মাদ বিন সালিহ আল-উষায়মীন রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “অনেক মানুষকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, কিন্তু অর্জিত সেই জ্ঞান অনুধাবন করার মতো ক্ষমতা তাদেরকে দেওয়া হয়নি। না বুঝে শুধু ক্বুরআন মাজীদ ও হাদীস মুখস্থ করাই যথেষ্ঠ নয়। বরং অবশ্য-ই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের মর্মার্থ আপনাকে বুঝতে হবে। ঐ লোকদের দ্বারা কতইনা ত্রুটি-বিচ্যুতি সংঘটিত হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের বাণীর মর্ম না বুঝেই দলীল পেশ করছে, যার ফলে তাদের অনুসারীদের মাঝে অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়েছে।” ফতোয়া আরকানুল ইসলাম, ঈমান অধ্যায়।